আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন

আসুন নিজেকে বদলায়। প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করি। সুন্দর জীবন ও সমাজ গড়ি। নতুন সকাল

সর্বশেষ

আজকের সংবাদ

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে মহানগর বিএনপির স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রেফতার অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ, গায়েবী মামলা প্রত্যাহার ও কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তিসহ ১২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে খুলনা মহানগর বিএনপি বুধবার সকালে খুলনা রিটানিং অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাস মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিগত দিনে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনসমূহ জনগণের ভোটের অধিকার ছিনতাই হয়েছে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবর্তে ভোট ডাকাতি, সন্ত্রাস, প্রতিপক্ষের উপর আক্রমন, প্রশাসনকে অসৎ ব্যবহার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর দমন পিড়ন করে নির্বাচনী মাঠ থেকে বিরোধী দলকে সরিয়ে দেয়া, কেন্দ্র দখল করে রাতে ও দিনে সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, প্রতিদিন নির্বাচন আচরণ বিধি লংঘন করা, ভীতি প্রদর্শন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারী দলের নিদের্শনায় চলতে বাধ্য করা সরকারী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিরোধী দলের বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়া প্রভৃতি ঘটনায় নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি ভোটারদের অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, গত দেড় মাসে খুলনায় বিশেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হঠাৎ করে ১৮ টি গায়েবী মিথ্যা মামলা দায়ের করে আড়াই হাজার নেতাকর্মীকে  আসামী করে ১৫৯ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, ও কয়েক হাজার রাজনৈতিক কর্মীর বাড়ীতে গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের সাথে বিরোধী দলের সংলাপে দেশের প্রধানমন্ত্রীর  আস্বাষ ও তফসীল ঘোষনার পরও গায়েবী মামলা দেয়া হয়েছে এবং গ্রেফতার অভিযান এখনও থামেনী। গ্রেফতার অভিযানে আমাদের কর্মীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্য পিতা-ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাড়ীঘর ভাংচুর করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নির্দয় আচরনে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী বাড়ি ছাড়া এলাকা ছাড়া।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনে প্রস্তুতি কাজের জন্য আরও তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়ে নির্বাচনী তফশীল পূনঃনির্ধারন করা। গ্রেফতার অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ, গায়েবী মামলা প্রত্যাহার ও কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও  সকলের সমান সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা। দল নিরপেক্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ, বিশেষ করে গত মেয়র নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে সহায়তাকারীদের নির্বাচনের বাহিরে রাখা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ রাখা ও মাঠ পর্যায়ে ঢেলে সাজানো এবং সরকারীদের দলের নির্দেশ মান্য না করায় নির্দেশনা দেয়া। প্রতীক প্রদান না করা পর্যন্ত সরকারি দলের প্রচারনা, মহড়া, মোটর সাইকেল র‌্যালী বন্ধ করা। কোন পর্যায়ে  ইভিএম ব্যবহার না করা। ভোটারদের নিরাপত্তা বিধানের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রকৃত  সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা। কালো টাকা দিয়ে ভোটকে প্রভাবিত না করতে পারে তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন।  সম্ভাব্য প্রিজাইডিং এবং পুলিং অফিসারদের বাড়ি যেয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি করছে এবং তাদের উপর নজরদারী করছে তা বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ। নির্বাচন আচরন বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা। সর্বোপরি অবাধ সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে দেশে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা পূনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, মীর কায়ছেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, মোল্লা আবুল কাশেম, শাহজামাল বাবলু, রেহেনা আক্তার, স ম রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মহিবুজ্জামান কচি, ইকবাল হোসেন খোকন, ইউসুফ হারুন মজনু, মুর্শিদ কামাল, মাসুদ পারভেজ বাবু, একরামুল কবীর মিল্টন, একরামুল হক হেলাল, হাসানুর রশীদ মিরাজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল আনাম, জহর মীর, অধ্যাপক শফিকুল আলম, কাজী মাহমুদ আলী, বাবু মোড়ল, ইমতিয়াজ আলম বাবু, মোস্তফা কামাল ও সরদার ইউনুচ আলী প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আজকের ভোরের ডাক পড়ুন এখানে

একসাথে চার সন্তানের মা হলেন সুবর্ণা