নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্ণোগ্রাফি প্রচারকালে ঝিনাইদহে র্যাব-৬ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে। ১৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ৭টায় কালা বাজার হতে এদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো, উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার মৃত মসলেম শেখ এর পুত্র মো. রাজিদুল ইসলাম রাজন (২৪), মো. শরিফুল ইসলাম এর পুত্র মো. আল আমিন হোসেন (২৪) ও কালা নতুন বাড়ি এলাকার মো. শাহাআলম এর পুত্র মো. শোহানুর রহমান (১৯)।
র্যাব জানায়, সম্প্রতি একটি অসাধু চক্র ভিডিও পর্ণোগ্রাফী পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্র আইন ২০১২ লঙ্ঘন করে বিভিন্ন প্রকার পর্ণো (অশ্লীল) ভিডিও ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে মোবাইলের মেমোরি কার্ড দ্বারা ট্রান্সফার করে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের নিকট পৌছে দিচ্ছে। যার ফলে বর্তমান সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতাসহ অন্যান্য অপরাধ উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিগত ১৩ নভেম্বর জনৈকা ভিকটিম তার অভিভাবককে সাথে নিয়ে এ ক্যাম্পে সংশ্লিষ্ট জিডি ও মামলা কপিসহ পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে হয়রানির উদ্দেশ্যে তৎপর একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। মামলা নং-৩২ তারিখ ১৩/১১/১৮। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সিপিসি-২, র্যাব-৬ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল কোম্পানী কমান্ডার মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদী ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি সোহেল পারভেজ এর নেতৃত্বে ১৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ৭টায় ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কালা বাজার হতে পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮(২)(৩)(৭) এজাহার নামীয় ৩ জন আসামী মো. রাজিদুল ইসলাম রাজন, মো. আল আমিন হোসেন ও মো. শোহানুর রহমানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মো. আল আমিন হোসেন জনৈক সুমনের নিকট হতে মেমোরী কার্ডের মাধ্যমে মোবাইলে কিছু পর্ণ ভিডিও সংগ্রহ করে। মো. আল আমিন হোসেন একটি পর্ণ ভিডিওতে কালা বাজারের জনৈকার (ভিকটিম) চেহারার সাথে সাদৃশ্যের কথা গ্রেফতারকৃত মো. রাজিদুল ইসলাম রাজনকে জানায়। গ্রেফতারকৃত মো. রাজিদুল ইসলাম রাজন পরবর্তীতে উক্ত ভিডিও এবং ভিডিও হতে স্ক্রীনশর্ট নেয়া কিছু ছবি ব্লুটুথ এর মাধ্যমে নিজ মোবাইলে নিয়ে নেয়। ঘটনার ধারাবাহিকতায় গ্রেফতারকৃত মো. শোহানুর রহমান উক্ত ভিডিও এবং ছবি গুলো ব্লুটুথের মাধ্যমে ডাটা ট্র্যান্সফার করে নিজ মোবাইলে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত মো. রাজিদুল ইসলাম রাজন, মো. আল আমিন হোসেন এবং মো. শোহানুর রহমান উক্ত ভিডিওতে ভিকটিমের নাম এডিট করে অত্র এলাকার কিশোর থেকে শুরু করে মধ্য বয়স্ক অনেকের মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়। উক্ত মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবার মারাত্মকভাবে সম্ভ্রবহানীর শিকার হয়।
এই ধরনের ব্যক্তিদের অশ্লীলতা প্রচার যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে যুবসমাজ দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে নানামুখী অপরাধ প্রবণতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা সমাজের ভিতর অপসংকৃতি প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের (সামাজিক আবহমান কালের) বন্ধনকে আঘাত করে। তাদের অপরাধ কর্মের ফলে যুবসমাজের মধ্যে বিকৃত রুচির প্রচার ও প্রসার লাভ করছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন